শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন

জয়া এবার নওয়াজউদ্দিনের নায়িকা

বাংলাদেশ ও কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতাদের সঙ্গে সফল জুটি গড়ার পর এবার বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর বিপরীতে অভিনয় করতে যাচ্ছেন সুপারস্টার জয়া আহসান। ১৯৬৭-র নকশালবাড়ি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নির্মিতব্য একটি ওয়েব সিরিজে তাদের একসঙ্গে দেখা যাবে। সিরিজটি পরিচালনা করবেন সায়ন্তন মুখোপাধ্যায়। পুলিশ কর্মকর্তা রুণু গুহ নিয়োগীর লেখা ‘সাদা আমি কালো আমি’ উপন্যাস অবলম্বনে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় এই সিরিজ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা। উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য দুটি চরিত্রের একটি চারু মজুমদার ও তার স্ত্রী লীলা মজুমদার। ভারতীয় বাঙালি নকশালপন্থি ও বামপন্থি নেতা ছিলেন চারু মজুমদার। আজন্ম বিপ্লবী এই মানুষটি ষাটের দশকের শেষে এবং সত্তরের দশকের প্রথমে বাংলার নকশাল আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন। ভারতের স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে নকশালবাড়ি গ্রামে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ১১ জন সাধারণ মানুষ। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয় সশস্ত্র আন্দোলন। নকশালবাড়ি ছাড়িয়ে ক্রমশই সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে থাকে সারা ভারতবর্ষে। যে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল সিপিআইএমএল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হতে যাচ্ছে ওয়েব সিরিজটি। হিন্দি, ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় তৈরি হবে এই ওয়েব সিরিজ যা তিনটি সিজনে প্রকাশ পাবে। পরিচালনা করছেন ভারতের সায়ন্তন মুখোপাধ্যায়। ১৯৪৭ থেকে ২০১০ অবধি বিশ্বজুড়ে বামপন্থি আন্দোলনের কাহিনী দেখানো হবে। সিরিজটির প্রথম সিজনের চিত্রনাট্যে রয়েছে নকশাল আন্দোলনের কাহিনী ও রাজনৈতিক নেতা চারু মজুমদারের জীবন। সেই চরিত্রটি পর্দায় ফুটিয়ে তুলবেন ‘মান্টো’খ্যাত বলিউড অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী! তার স্ত্রী হিসেবে দেখা দেবেন জয়া আহসান। তিনি বলেন, ‘এমন একটি আন্তর্জাতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারাটা গৌরবের। সবচেয়ে ভালো লাগছে এটি একদিক থেকে যেমন বাঙালির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়, অন্যদিকে সেই ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলবেন প্রখ্যাত সব অভিনয়শিল্পী। তাদের সঙ্গে কাজ করাটাও আনন্দের ব্যাপার। এই কাজটি সর্বভারতীয় দর্শকের জন্য নির্মিত হচ্ছে। বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছানোরও একটি সুযোগ এটি।’ পরিচালক সায়ন্তনের ছবিতে আগেও কাজ করেছেন জয়া আহসান। এই নির্মাতা-অভিনয়শিল্পী জুটির ‘ঝরা পালক’ সিনেমাটি শিগগিরই মুক্তি পাবে। সিনেমাটি কবি জীবনানন্দ দাশের জীবন নিয়ে তৈরি। এই ছবিতে কবির স্ত্রী লাবণ্য দাশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। প্রথম ছবিতেই জয়ার কাজে আপ্লুত এই পরিচালক। তাই তো আবারও অভিনেত্রীকে নিজের আন্তর্জাতিক সিরিজে অভিনয়ের জন্য চূড়ান্ত করেছেন। জয়াকে লীলা মজুমদার চরিত্রে কাস্টিং প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, ‘জয়া অনুরোধ জানিয়েছিলেন ভারতের জাতীয় স্তরের কাজে তাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য। সেই জায়গা থেকেই লীলা মজুমদার চরিত্রের জন্য বলতেই এক কথায় রাজি তিনি।’ নিজের চরিত্র নিয়ে জয়া বলেন, ‘লীলা মজুমদার সিরিজটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমন একটি চরিত্রের প্রস্তাব যখন পাই, তখন এক কথায় রাজি হয়ে যাই। তাছাড়া পরিচালক সায়ন্তনের সঙ্গে আগেও কাজ করেছি। তার নির্মাণশৈল্পী আমার পছন্দ। এ জন্যই তার সঙ্গে আরও ভালো প্রজেক্টে কাজের ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম। তিনি সম্মানের সঙ্গে সেই কথাটি মনে রেখেছেন এবং আমাকে দারুণ একটি চরিত্র ফুটিয়ে তোলার সুযোগ দিয়েছেন। আমি সততার সঙ্গে কাজটি করতে চাই।’

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘তার ব্যাপারে নতুন করে কি কিছু বলার আছে? উপমহাদেশের দর্শক জানেন তিনি কত বড় মাপের অভিনেতা। কত ধরনের সিনেমায় কত বিচিত্র চরিত্র উপস্থাপন করার সুযোগ পেয়েছেন। এমন একজন অভিজ্ঞ অভিনেতার সঙ্গে কাজ করব, সেটা নিয়ে আমি খুবই এক্সাইটেড।’

নির্মাতা সূত্রে আরও জানা যায়, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনটি পর্বে দেখানো হবে এই সিরিজ। প্রথম পর্বে থাকবে ১৯৪৭-১৯৭২ সাল। দ্বিতীয় পর্বে ১৯৭২-১৯৯০ পর্যন্ত উঠে আসবে। শেষ পর্বে থাকবে ১৯৯০ থেকে বর্তমান প্রেক্ষাপট। কলকাতা, মুম্বাই, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি চীন, রাশিয়াতেও ছবির শ্যুটিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। সিনেমাটি এখন প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে। আগামী বছরে পূজার আগে সিনেমার শ্যুটিং শুরু করতে চান সায়ন্তন। সিরিজটিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের ভূমিকায় প্রাথমিকভাবে সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা হয়েছে। চারু মজুমদারের অন্যতম সঙ্গী কানু সান্যালের চরিত্রে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে ভাবা হয়েছে। এ ছাড়া জ্যোতি বসুর চরিত্রের জন্য প্রাথমিকভাবে বলিউডের প্রখ্যাত দুই অভিনেতা পরেশ রাওয়াল ও বোমান ইরানির কথা ভেবেছেন নির্মাতা। একটি আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে ওয়েব সিরিজটি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com